যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে দায় ট্রাম্পের: এপি-এনওআরসি জরিপ

Oct 03, 2026 - 12:51
Updated: 26 days ago
0 3
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে দায় ট্রাম্পের: এপি-এনওআরসি জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন দেশটির অধিকাংশ নাগরিক। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতি ১০ জনের মাত্র ২ জন। এপি-এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের করা নতুন এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই জরিপ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অসন্তোষের দিকে ইঙ্গিত করছে। রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী শুল্কনীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং দুই বছর আগে নির্বাচনী প্রচারে তিনি যে অর্থনৈতিক স্বস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণে ব্যর্থতা মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

এপি-এনওআরসির জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে পণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পের নীতিই বেশি দায়ী। বেশির ভাগ রিপাবলিকানও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যদিও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করতে অতটা আগ্রহী নন তাঁরা।

নতুন জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনায় ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রতি ১০ জনে মাত্র ৩ জন। এদিকে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামকে নিজেদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা।

জরিপে সাধারণ ভোটাররা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে একজন রিপাবলিকান সমর্থক ফ্রেড নাউম্যান। অবসরে থাকা এই ব্যক্তি বলেন, হোয়াইট হাউসের আশ্বাস সত্ত্বেও পণ্যের দাম ও দৈনন্দিন খরচ বেড়েই চলেছে। এতে প্রতি সপ্তাহেই তিনি আর্থিক চাপ অনুভব করছেন।

ক্রিস্টেন স্লেভেন কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করেন না। তিনিও ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের কারণে মূল্যস্ফীতি কমেনি; বরং এই নীতি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়েছে।

আরেক ভোটার রবার্ট গল্ট বলেন, নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প দ্রুত জিনিসপত্রের দাম কমানো ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কিন্তু মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখনো প্রতিমাসে তাদের খরচের হিসাবে উল্লেখযোগ্য কোনো স্বস্তি পায়নি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জনমতের এই চিত্র রিপাবলিকান সরকারের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে দলটি। ডেমোক্রেটিক দলের নেতারা এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরে বলছেন, ট্রাম্পের নীতি মূলত ধনীদের সুবিধা দিচ্ছে এবং কাজ করে খাওয়া পরিবারগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

হোয়াইট হাউস অবশ্য প্রেসিডেন্টের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে। তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, দেশের কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক অর্থনৈতিক সূচক এখনো শক্তিশালী রয়েছে। তবে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ডেমোক্র্যাটদের নেওয়া নীতি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0
Editorial

কর্মী, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের নিরাপদ ও সফল বিদেশযাত্রার লক্ষ্যে এটি সঠিক তথ্য, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা প্রদান করাই এই গণমাধ্যমের লখ্য। দেশের ও প্রবাসের খ্যাতনামা গণমাধ্যমের অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীদের নিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটি ইউটিউব, ফেসবুক ও টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত আপডেট ও গাইডলাইন প্রকাশ করে আসছে।

Comments (0)

User